বিশ্ব নারী দিবসে নিউ এরা ফাউন্ডেশনের আয়োজন

বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে নিউ এরা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৮ মার্চ, রোববার সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের গোলঘরে এ সভার আয়োজন করা হয়।

নিউ এরা ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোস্তাক আহমেদ কিরনের সঞ্চালনায় এবং মুক্তিযোদ্ধা ও সাপ্তাহিক সংবাদ সাতদিন-এর উপদেষ্টা মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার চেয়ারম্যান ফৌজিয়া মঞ্জুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারী উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক নাসরীন আক্তার শেলী।

অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত উদ্যমী ও সফল নারীরা অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ভাড়ইমারী গ্রামের মাহমুদা বেগম, বড়ইচারা গ্রামের অ্যামেলি নাসরিন, অরনকোলা গ্রামের সালমা খাতুন এবং জগন্নাথপুর গ্রামের এরিনা বেগম। মাহমুদা বেগম মাসব্যাপী সবজি চাষ বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। অ্যামেলি নাসরিন নিউ এরা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মাসব্যাপী ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সালমা খাতুনের স্বামী একসময় নিউ এরা ফাউন্ডেশনে কর্মরত ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেও পরবর্তীতে সংস্থাটির সহযোগিতায় শিক্ষা সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন এবং নিজেই মোটরসাইকেল চালিয়ে কর্মস্থলে আসেন। এরিনা বেগমও একজন সফল নারী কৃষক হিসেবে পরিচিত।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। সঞ্চালকের বক্তব্যে মোস্তাক আহমেদ কিরন বলেন, নিউ এরা ফাউন্ডেশন সবসময় নারী কর্মীবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে এবং সমাজের নানা বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে চাওয়া নারীদের পাশে দাঁড়াতে সংস্থাটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সভাপতির বক্তব্যে ফৌজিয়া মঞ্জুর বলেন, নারীদের এগিয়ে যেতে হলে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং সেই অধিকার আদায়ে দৃঢ় থাকতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মতিউর রহমান বলেন, একটি জাতি গঠনে শিক্ষিত মায়ের ভূমিকা অপরিসীম। সমাজের সব নারীর জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, টেকসই ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার মাধ্যমেই নারীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী নারীরা তাদের জীবনসংগ্রামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। মাহমুদা বেগম বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার পর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বামীর সঙ্গে কৃষিকাজ শুরু করেন এবং নিউ এরা ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হতে সক্ষম হয়েছেন। অ্যামেলি নাসরিন জানান, সংসারের অর্থনৈতিক কষ্ট দূর করতে তিনি ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে তিনি ও তার সহকর্মীরা প্রতি মাসে কয়েক টন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করছেন।

নিউ এরা ফাউন্ডেশনের কর্মী যুথি খাতুন তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তার অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছিল, ফলে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। পরে নিউ এরা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে কাজের সুযোগ পেয়ে তিনি আবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হন। সালমা খাতুন বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের দায়িত্ব একাই বহন করতে হয়েছে। নিউ এরা ফাউন্ডেশন তাকে চাকরির সুযোগ দেওয়ায় তিনি নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পেরেছেন এবং তার মতে শিক্ষাগত যোগ্যতা নারীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার অন্যতম ভিত্তি।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা উদ্যমী নারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। কৃষি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মাহমুদা বেগম ও এরিনা বেগম এবং ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে অবদানের জন্য অ্যামেলি নাসরিনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

No Comments

Post a Comment